ত্বকের যত্ন…

Posted: August 4, 2012 in বিনোদন

এই ঋতুতে চলছে রোদ-বৃষ্টির খেলা। সবকিছু ছাপ ফেলে যাচ্ছে আপনার ত্বকে। এখনই নিজের যত্ন না নিলে ঈদের দিন আপনার ত্বক আর চুল—দুই-ই আপনাকে ফেলবে বিড়ম্বনায়। আনন্দ-উৎসবটাই হবে মাটি। এখন থেকেই চাই নিজের বিশেষ যত্ন।
হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের সৌন্দর্যচর্চা পরামর্শক তানজিমা শারমিন বলেন, গরম পড়ছে যেমন, থেকে থেকে বৃষ্টিও হচ্ছে। দিনের বেলা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ঈদের কেনাকাটার ধকলও যোগ হয়েছে। ত্বকে রুক্ষতা, ব্রণ ও কালো ছাপই এ সময়ের মূল সমস্যা। তাই এ সময়ে ত্বক যাতে আর্দ্র থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দিনের শেষে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করে ক্রিম দিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। ত্বকে সজীবতা ধরে রাখতে ঈদের আগেই পার্লারে দুবার ফেসিয়াল করাবেন। এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
ঘরোয়া প্যাকের জন্য প্রাকৃতিক উপাদানই যথেষ্ট। ইফতারের পর প্রতিদিন ত্বক ফেসওয়াশ বা স্ক্রাবারের সাহায্যে পরিষ্কার করা চাই। স্ক্রাব করার জন্য চন্দন পাউডার, টকদই, পোস্তদানা বা মিহি চিনির দানার মিশ্রণ তৈরি করে নিন। পাঁচ মিনিট স্ক্র্যাব করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এরপর ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করুন। যাঁদের ত্বক শুষ্ক তাঁরা কাঁচা হলুদ, কাঁচা দুধ, কাঠবাদাম ও অ্যালোভেরার পেস্ট করে লাগাতে পারেন। ১০ মিনিট মুখে রেখে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলবেন। এতে করে ত্বক নরম থাকবে। কাঁচা হলুদে অ্যালার্জি থাকলে হলুদ বাদ দেবেন।
যেহেতু গরম পড়ছে, কেনাকাটার সময় সানবার্ন হয়ে ত্বকে কালো ছাপ পড়তে পারে। কালো ছাপ কমাতে টকদই, কাগজি লেবুর রস ও চন্দনের মিশ্রণ তৈরি করে ত্বকে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিন। পাঁচ মিনিট পর পানি দিয়ে আবার ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক যেমন উজ্জ্বল হবে, তেমনি দাগ কমবে। যাঁরা তৈলাক্ততার সমস্যায় সারাবছর ভোগেন, এ সময় তাঁদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত। ভাজাপোড়া খাবারের ফলে তাঁদের ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাঁরা প্রতিদিন ঘৃতকুমারী, তুলসী ও নিমের পেস্ট করে মুখে লাগাবেন। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন। তেল কমবে, ঈদের আগে আগে ব্রণও কমে যাবে।
চুল সুন্দর রাখতে মাথার ত্বকও ভালো রাখা চাই। শ্যাম্পুর আগে মাথায় কুসুম গরম তেল ম্যাসাজ করবেন ২০ মিনিট। অথবা তেল লাগিয়ে গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে নিংড়ে মাথায় মুড়িয়ে রাখতে পারেন চার থেকে পাঁচ মিনিট। এভাবে দু-তিনবার ভাপ দিলে মাথার ত্বক ভালোভাবে তেল শুষে নেবে। রাতে ভাপ দিয়ে সকালেও শ্যাম্পু করা যেতে পারে। চুলে ঝলমলে ভাব আনতে পার্লারে গিয়ে ডিপ কন্ডিশনিং বা প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান আখতারুন নাহার আলো বললেন, এ সময় প্রায় সবার ত্বকেই পরিবর্তন আসে। পানি কম খাওয়া হয় বিধায় ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে ওঠে, খসখসে দেখায়। ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার বেশি খাওয়া হয়। এ কারণে বাড়ে ব্রণ, মুখে আসে বয়সের ছাপ। তবে এসব প্রতিরোধের উপায় খুব সহজ। তরল খেতে হবে বেশি। সারা দিনে দুই থেকে আড়াই লিটার পানি ও বিভিন্ন ফলের রস, সিরাপ, ইসবগুল, তোকমা, দুধ, দই, তেঁতুল, বেল, লেবু, লাচ্ছি দুধ, চা, ঝোল কিংবা ডাল খেতে পারেন। ইফতারিতে ছোলার সঙ্গে দুটি খেজুর, যেকোনো একটি তেলে ভাজা, মুড়ি বা চিড়া এবং ফল যোগ করতে পারেন। কাঁচা ছোলার সঙ্গে আদা কুচি, লবণ ও পুদিনা পাতা কুচি দিয়ে খাওয়া যায়। এটা হজমে যেমন সহায়ক, তেমনি ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎস। সন্ধ্যারাতের খাবারে হালকা মসলায় রান্না করা মাছ ও সবজি থাকলে ভালো হয়। সেহিরতে ভাতের বদলে রুটি, পরোটা, দুধ, সেমাই ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এ সময় মাংস ও ডিম খাওয়া সুবিধাজনক। ঘন ডাল খাওয়া যেতে পারে। ছোট-বড় সবার জন্যই এক কাপ দুধ খাওয়া উচিত। মনে রাখবেন, অন্যান্য দিনে যার যতটুকু ক্যালরির চাহিদা থাকে, ততটুকু ক্যালরি রমজান মাসে ইফতারি, রাতের খাবার ও সেহিরর সময় সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর আহারে গ্রহণ করতে হবে।
নিজেকে সুন্দর রাখার মূলমন্ত্র হলো নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, প্রচুর মৌসুমি ফল ও সবজি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও পরিমিত ঘুম। তাহলেই দেখবেন, আনন্দ-উৎসবের জন্য আপনি একদম প্রস্তুত।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s